April 19, 2026, 2:35 pm

পানির মূল্যবৃদ্ধির ঢাকা ওয়াসার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে : বাংলাদেশ ন্যাপ

করোনা মহামারির মধ্যেই ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে প্রতি ১ হাজার লিটারে পানির দাম ৫ শতাংশ হারে মুল্যবৃদ্ধির সিদান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং পানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও জনবিরোধী হিসাবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা ওয়াসার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবী জানান।

নেতৃদ্বয় বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি দিতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা পানির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অনৈতিক ও জনবিরোধী। জনগনের চাহিদা মোতাবেক বিশুদ্ধ পানি প্রদানে ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা এর পূর্বেও আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে পানির মুল্য বৃদ্ধি করেছিল।

তারা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি পান করা যায় না। অন্যদিকে বহুস্থানে পানির পাম্পের সীমানার ভেতরেই একটি সংস্থার বিশুদ্ধ পানি বিক্রি হয়। কার্ড বানিয়ে আলাদা দামে সেই পানি কিনতে হয়। ওয়াসার পানির বিলের বাইরেই গ্রাহকদের এই টাকা গুনতে হয়। অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিকরা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির উপর নির্ভর করতে পারে না। বিশেষ করে পান করার ক্ষেত্রেতো নয়ই। এই ক্ষেত্রে প্রায় পরিবারকে আলাদাভাবে পানি ক্রয় করে পান করতে হয়। তবে ওয়াসার পানি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসেই বিল ঠিকই দিতে হয়। এবার বিলের অঙ্ক হকে দ্বিগুণ। যা অন্যায় ও অনৈতিক। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া গেলেও বকেয়া বিল আদায়ের জন্য ওয়াসা এলাকায় মাইকিং করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয় দেখায় গ্রাহককে।

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে নগরে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানীতে ওয়াসার পানির বিল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ ও সেবার মান না বাড়িয়ে ইচ্ছে মত পানির মূল্যবৃদ্ধির ওয়াসা সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা আরো বলেন, সরকারি দলের টেন্ডারবাজদের কারণে ওয়াসার কাজ বিলম্বিত কাজের ব্যয় পাঁচ থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা জনগণের পকেট থেকে কেটে নেয়ার জন্যই অযৌক্তিকভাবে পানির মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। কোনো আইননীতি ও জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে পানির মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে, কিন্তু সেবার মান পড়ে আছে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা